পুঁজিবাজারে জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত চার কোম্পানির চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আয় ও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে। কোম্পানিগুলো হলো পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডার্স পিএলসি। কোম্পানিগুলোর দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পদ্মা অয়েল: চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১৬২ কোটি ২১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে পদ্মা অয়েলের আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৪৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৬২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে পদ্মা অয়েলের মুনাফা বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৯ টন, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ টন।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৫ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের যা ছিল ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা। অন্যদিকে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ২৯ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএনভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫৬ টাকা ৯৫ পয়সায়।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম: চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে একই সময়ে যা ছিল ১০৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩০১ কোটি ৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটি মুনাফা হয়েছিল ১৮৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মুনাফা বেড়েছে ৫৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৭ টাকা ৮২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৭ টাকা ৪৮ পয়সা। অন্যদিকে চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৫ টাকা ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪৪ টাকা ৯৪ পয়সায়।
যমুনা অয়েল: চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৮২ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে একই সময়ে যা ছিল ৬৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে যমুনা অয়েলের আয় বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৬৪ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে যমুনা অয়েলের মুনাফা বেড়েছে ২৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৩ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১২ টাকা ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১০ টাকা ৮৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫৯ টাকা ৫৭ পয়সায়।
ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস: চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৩১ কোটি ২৮ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের মুনাফা বেড়েছে সাড়ে তিন গুণের বেশি।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৭ টাকা ৫৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। অন্যদিকে চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৩০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০৮ টাকা ৪৬ পয়সায়।